Breaking News | Part 03 | mysterious crime thriller story of a serial killer news reporter story by Tanmoy Roy | Cholo Golpo Suni


Please read PART 01 first, then

Read PART 02...

*******************

লালবাজারের সাইবার ক্রাইম সেকশনের স্ক্রিনে তখন অবিনাশ দত্তর গত তিন মাসের কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) এবং টাওয়ার লোকেশনের গ্রাফ ভাসছিল। ইন্সপেক্টর সায়ন সেনগুপ্ত ওনার চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে ক্লান্ত চোখ দুটো রগড়ালেন। ডেটা কখনো মিথ্যে বলে না। বিকাশ সামন্ত এবং আকাশ ব্যানার্জী—দুটো খুনের রাতেই অবিনাশ দত্তর মোবাইল ফোনের জিপিএস লোকেশন ঠিক ওই নির্দিষ্ট ক্রাইম স্পটের ৫০০ মিটারের পরিধির মধ্যে ছিল।

সায়ন ওনার সাব-ইন্সপেক্টরকে বললেন, "অবিনাশবাবুর ফোনের ওপর কড়া নজরদারি রাখো। ওনার ফোন ট্যাপ করা শুরু করো। ওনার পরবর্তী মুভমেন্ট ট্র্যাক করা আমাদের চাই। তবে মনে রাখবে, ওনাকে এখনই ধরা যাবে না। যতক্ষণ না ওনাকে আমরা ক্রাইম স্পটে অকাট্য প্রমাণ বা অস্ত্রসহ হাতেনাতে ধরছি, ততক্ষণ কোর্টে এই কেস টিকবে না।"

ওদিকে অবিনাশবাবু তখন ওনার তৃতীয় শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সুব্রত কুণ্ডু নামের এক মদ্যপ স্বামী, যে মাত্র এক সপ্তাহ আগে নিজের তরুণী স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরে সেটাকে ছাদ থেকে পড়া দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়েছিল। লোকাল থানা টাকা খেয়ে কেসটা ধামাচাপা দিয়ে দেয়। অবিনাশবাবু এই খবরটা ওনার পেজের ইনবক্সে পাওয়া একটি বেনামী অভিযোগ থেকে জানতে পারেন।

এক অন্ধকার রবিবারের রাতে, সুব্রত যখন এক নির্জন গলির ভেতর দিয়ে টালমাটাল অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরছিল, অবিনাশবাবু অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওনার স্কুটারের ভারী ক্লাচ লক দিয়ে সুব্রতের মাথার পেছনে আঘাত করেন। সুব্রত মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর অবিনাশবাবু ওনার লাইভ স্ট্রিম শুরু করেন। পেজে ভিউয়ার্সের সংখ্যা মাত্র কয়েক মিনিটে ৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। কমেন্ট বক্সে জাস্টিসের জয়ধ্বনি উঠছিল।

কিন্তু অবিনাশবাবু খেয়াল করেননি যে, লালবাজারের সার্ভারে ওনার ফোনের লোকেশন অন হওয়া মাত্রই সায়নের টিমের কাছে অ্যালার্ট চলে গিয়েছিল। সায়ন বুঝতে পেরেছিলেন, অবিনাশবাবু অলরেডি তৃতীয় মার্ডারটা করে ফেলেছেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অবিনাশবাবু স্পট ছেড়ে চলে যান, কিন্তু ওনার অজান্তেই ওনার ফোনের আইপি অ্যাড্রেস আর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট পুলিশের ট্র্যাপে আটকে যায়।

তৃতীয় খুনের পর অবিনাশবাবুর আত্মবিশ্বাস মারাত্মক বেড়ে গিয়েছিল। ওনার মনে হচ্ছিল, তিনি এক অদৃশ্য ও অজেয় শক্তির অধিকারী। ওনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তখন লাখ লাখ টাকার নোটিফিকেশন ঢুকছে। কিন্তু ওনার এই মানসিক বিকৃতির চূড়ান্ত পরীক্ষা নেওয়া বাকি ছিল চতুর্থ শিকারে।

একদিন সকালে খবরের কাগজের ভেতরের পাতায় একটা ছোটো কলামে ওনার চোখ আটকে গেল। উত্তরবঙ্গের একটা গরিব পরিবারের তেরো বছরের মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবর। অবিনাশবাবু ওনার পুরনো সোর্সদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, মেয়েটিকে কোনো ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে কলকাতায় নিয়ে এসে সোনাগাছির এক কুখ্যাত ও প্রভাবশালী ল্যান্ডলেডি বা ম্যাডাম—মালতী মাসির অন্ধকার কোঠায় বন্দি করা হয়েছে। মালতী মাসি দেখতে সাধারণ ঘরোয়া মহিলার মতো হলেও, ও আসলে এক মস্ত বড় চাইল্ড ট্র্যাফিকিং সিন্ডিকেটের মাথা। দূরদূরান্তের অসহায় নাবালিকাদের জোর করে, মারধর করে ও নিজের আস্তানায় সেক্স ওয়ার্কে নামিয়ে দিত। সবচেয়ে ভয়ানক বিষয় হলো, লোকাল থানার কিছু অসৎ অফিসার মালতীর থেকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা খেত, তাই খবরের কাগজে নাম বেরোনোর পরেও পুলিশ সব জেনে চুপ ছিল। ভিকটিমের গরিব বাবা-মা থানায় এসে কেঁদে মরলেও একটা ডায়েরি পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

খবরের ওই ছোট্ট কলামটা আর পুলিশের এই চরম উদাসীনতা দেখে অবিনাশবাবুর শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। ওনার নিজেরও তো একটা মেয়ে আছে—রিশা, যে ওনার জানের টুকরো। আজ যদি রিশার সাথে এমন কিছু হতো? নিজের মেয়ের মুখটা মনে পড়তেই অবিনাশবাবুর চোখ দুটো রাগে ও ঘৃণায় লাল হয়ে উঠল।

তিনি ভাবলেন, এই মহিলা সমাজের বুকে একটা চরম কলঙ্ক, যার ওপর আইনেরও হাত নেই। একে মারলে যেমন ওনার পেজের রিচ সারা ভারতের ডিজিটাল মিডিয়াকে নাড়িয়ে দেবে, তেমনই একজন বাবা হিসেবে ওনার আত্মা চরম তৃপ্তি পাবে। ওনার চোখ লোভ আর পার্সোনাল আক্রোশের নেশায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। লালবাজারের ক্রাইম ব্রাঞ্চ যে অলরেডি ওনার ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ওনার প্রতিটি পদক্ষেপ ট্র্যাক করছে—অবিনাশবাবু তখনও সেটা জানতেন না।

বুধবার রাত তখন দেড়টা। মালতী মাসি যখন ওর আস্তানার পেছনের এক অন্ধকার, কুয়াশাচ্ছন্ন গলিতে নিজের গাড়ির লক খুলছিল, অবিনাশবাবু পেছন থেকে এসে ওনার ব্যাগের ভারী পেপারওয়েট দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন মালতীর মাথার পেছনে। মালতী কোনো শব্দ করার সুযোগ না পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। অবিনাশবাবু মালতীর অচেতন শরীরটা ধরাধরি করে নিজের স্কুটারের সামনে চাপিয়ে নিয়ে গেলেন বাইপাসের ধারের একটা পরিত্যক্ত, অন্ধকার ও জনহীন খালি জায়গায়।

সেই অন্ধকার খালি এরিয়াটায় মালতী মাসিকে একটা লোহার পোল বা খুঁটির সাথে শক্ত করে বাঁধলেন অবিনাশবাবু। মালতীর মুখটা একটা মোটা কাপড় দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল যাতে কোনো চিৎকার বাইরে না আসতে পারে। অবিনাশবাবু চেয়েছিলেন, ওই অসহায় ছোট ছোট মেয়েগুলো যে তীব্র শারীরিক ও মানসিক কষ্ট সহ্য করেছে, মালতীও যেন মরার আগে সেই কষ্টের কিছুটা অন্তত টের পায়।

কিছুক্ষণ পর মালতীর জ্ঞান ফিরল। নিজেকে এভাবে বাঁধা অবস্থায় দেখে ও আতঙ্কে চোখ বড় বড় করে ছটফট করতে লাগল, কিন্তু মুখ বাঁধা থাকায় শুধু একটা চাপা গোঙানির শব্দ বেরোচ্ছিল। অবিনাশবাবু কোনো কথা না বলে ওনার পকেট থেকে সেই ধারাল পেপার কাটার নাইফটা বের করলেন।

অন্ধকারের বুকে ব্লেডের তীক্ষ্ণ আওয়াজ উঠল—ক্লিক, ক্লিক!

অবিনাশবাবু মালতীর সামনে এসে দাঁড়ালেন। ওনার চোখ দুটো তখন এক সাইকোপ্যাথ জাস্টিস-কিলারের মতো ঠাণ্ডা। তিনি পেপার কাটার দিয়ে মালতীর হাত, হাত ও শরীরের চামড়ার ওপর একের পর এক গভীর কাট (Cut) দিতে লাগলেন। কাটার ধারাল ব্লেড চামড়া চিরে মাংসের গভীরে বসে যাচ্ছিল, আর মালতী মাসি ব্যথায় ছটফট করতে করতে ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছিল। মুখ বাঁধা থাকায় ওর গলার চামড়া ছিঁড়ে যাওয়ার মতো গোঙানি আসছিল, চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল।

টর্চের আলোয় মালতীর ছটফটানি দেখতে দেখতে অবিনাশবাবু ওনার ব্যাগ থেকে বের করলেন একটা বড় লবণের প্যাকেট। তিনি এক মুঠো নুন নিয়ে মালতীর শরীরের সেই তাজা, রক্তাক্ত ক্ষতগুলোর ওপর সজোরে মাখিয়ে দিলেন। নুনের ছোঁয়া লাগা মাত্রই মালতীর চোখ দুটো কোটর থেকে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। নুন-রক্তের সেই তীব্র রাসায়নিক জ্বালায় মালতী মাসির শরীরটা অবশ হয়ে নিস্তেজ হতে শুরু করল। ওনার চাবানো কামড় আর অসহ্য যন্ত্রণার ছটফটানি তখন শেষের মুখে।

ঠিক এই চরম মুহূর্তে অবিনাশবাবু ওনার ক্যামেরা আর ট্রিপডটা লাশের থেকে কয়েক ফুট দূরে সেট করলেন। ওনার নিজের হাত-পা তখনো কাঁপছিল, গা দিয়ে ঘাম ঝরছিল। তিনি "জনতার আওয়াজ" পেজ থেকে লাইভ বোতামটা প্রেস করলেন। headlines বা বড় খবরের চেনা সুরে ওনার গম্ভীর কণ্ঠস্বর লাখ লাখ মানুষের মোবাইল স্ক্রিনে বেজে উঠল—

"নমস্কার, জনতার আওয়াজ থেকে আমি অবিনাশ দত্ত। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এবং স্তব্ধ করে দেওয়া ব্রেকিং নিউজ! যে মালতী মাসি বছরের পর বছর ধরে গরিব ঘরের নাবালিকা বাচ্চাদের জীবন ধ্বংস করে বাজারে বিক্রি করেছে, অথচ পুলিশ টাকা খেয়ে চুপ ছিল, আজ রাতেই উদ্ধার হলো তার রক্তাক্ত মৃতদেহ! আইন যাকে শাস্তি দিতে পারেনি..."

অবিনাশবাবু ওনার লাইনটা শেষ করতে পারলেন না। ঠিক তখনই অন্ধকার মাঠের চারিদিক ফুঁড়ে পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াল।

"পুলিশ! হাত ওপরে তোলো অবিনাশবাবু! ডোন্ট মুভ!" ইন্সপেক্টর সায়ন সেনগুপ্তের গম্ভীর গলা পুরো ফাঁকা এলাকায় প্রতিধ্বনিত হলো। সাথে সাথে এক ডজন টর্চের তীব্র আলো এসে পড়ল অবিনাশবাবুর মুখে। ওনার চোখ ধাঁধিয়ে গেল।

অবিনাশবাবু হকচকিয়ে গেলেন, ওনার হাতের রক্তাক্ত পেপার কাটার আর নুনের প্যাকেটটা মাটিতে পড়ে গেল। সায়ন শান্ত পায়ে ওনার দিকে এগিয়ে এলেন। সায়ন মাটিতে পড়ে থাকা মোবাইল ক্যামেরাটার দিকে তাকালেন, যা তখনও লাইভ চলছিল। লাখ লাখ মানুষ স্ক্রিনে দেখছে যে ওনাদের তথাকথিত 'হিরো' অবিনাশ দত্ত আসলে পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেছেন। ওনার নিজের বাড়িতে বসে হয়তো রিশা আর শিপ্রাও স্ক্রিনে এই ভয়ংকর দৃশ্যটা দেখছিল।

সায়ন ক্যামেরাটার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন, তারপর অবিনাশবাবুর দিকে ফিরে ওনার পকেট থেকে ওনার স্কুটারের ভাঙা নাম্বার প্লেটের টুকরো এবং আগের ক্রাইম সিনের সেই সিসিটিভি স্ক্রিনশটটা বের করে সামনে রাখলেন।

"ডিজিটাল দুনিয়াটা বড় অদ্ভুত অবিনাশবাবু," সায়ন বললেন, "আপনি ভিউ আর ডলারের লোভে লাখ লাখ মানুষের সামনে নিজের ক্রাইম স্পটের মেটাডেটা আর টাওয়ার লোকেশন রোজ আমাদের সার্ভারে গিফট করছিলেন। আপনার খেলা এখানেই শেষ।"

পুলিশের কনস্টেবলরা অবিনাশবাবুর হাত দুটো পেছনে মুড়ো করে হাতকড়া পরিয়ে দিল। অবিনাশবাবু কোনো প্রতিরোধ করলেন না। ওনার ফ্যামিলির সুখ, ওনার কোটি কোটি ভিউ, ওনার অহংকার—সবকিছু তাসের ঘরের মতো এক মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

তিনি যখন জিপের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন লালবাজারের মিডিয়া ভ্যানগুলো অলরেডি মাঠের বাইরে ভিড় করে ফেলেছে। অজস্র ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইট ওনার মুখের ওপর আছড়ে পড়ছিল। সাংবাদিকরা চিৎকার করে ওনাকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করছিল।

যে অবিনাশ দত্ত একসময় খবরের কাগজের সাধারণ পাঠক ছিলেন, যিনি ভিউ আর টাকার লোভে নিজের হাত রক্তে রাঙিয়েছিলেন—তিনি আজ নিজেই একটি ব্রেকিং নিউজ হয়ে উঠলেন।


*************************


অবিনাশ দত্তের গ্রেফতারির পর কেটে গেছে দীর্ঘ ছ-টা মাস। কলকাতা শহরের বুকে "জনতার আওয়াজ" পেজটি এখন আর নেই, কোর্টের নির্দেশে সেটিকে পুরোপুরি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল মিডিয়ার দুনিয়ায় "অবিনাশ দত্ত" নামটা এখনো একটা বড় বিতর্ক। কেউ ওনাকে বলে ‘সাইকোপ্যাথ কিলার’, আবার সমাজের একাংশ ওনাকে এখনো ‘রবিনহুড’ বা ‘জনতার আসল হিরো’ বলে মনে মনে কুর্নিশ জানায়।

প্রেসিডেন্সি জেলের চার দেওয়ালে বসে অবিনাশবাবুর দিনগুলো এখন কাটে সম্পূর্ণ একাকীত্বে। ওনার চশমার কাঁচটা এখন আর অতটা পরিষ্কার নয়, চোখের নিচে কালির দাগগুলো আরও গাঢ় হয়েছে। ওনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লকড, সমস্ত টাকা পুলিশ সিজ করেছে। কিন্তু ওনার মুখে কোনো অনুশোচনা নেই। ওনার ভেতরের সেই ছদ্ম-ঈশ্বরের অহংকারটা হয়তো ভেঙে গেছে, কিন্তু একজন বাবা হিসেবে ওনার মনে কোনো আফসোস নেই। মালতীর মতো রাক্ষসকে শেষ করতে পেরেছেন, এটাই ওনার শান্তি।

আজ ওনার কোর্টে প্রোডাকশন ছিল। জেলের প্রিজন ভ্যান থেকে যখন ওনাকে নামানো হচ্ছিল, চারপাশ থেকে আদালতের লক-আপের করিডোরে অজস্র সাংবাদিক ক্যামেরা আর বুম নিয়ে ওনাকে ছেঁকে ধরল।

"অবিনাশবাবু, আপনার কি নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনো আফসোস হয়?" "আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াটা কি ঠিক হয়েছিল?"

শত শত ফ্ল্যাশলাইটের আলোর মাঝেও অবিনাশবাবু শান্ত রইলেন। তিনি ভিড়ের দিকে চোখ বোলাচ্ছিলেন। ওনার চোখ খুঁজছিল একটা চেনা মুখ।

ঠিক তখনই করিডোরের একদম শেষ মাথায়, লক-আপের লোহার গ্রিলের ওপারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল রিশাকে। ওনার মেয়ে। রিশার পরনে একটা সাধারণ সুতির সালোয়ার, চুলে তেল দেওয়া, চোখে চশমা। আগের সেই উজ্জ্বলতা বা দামী ম্যাকবুক নিয়ে বসার উচ্ছ্বাস আর ওনার মধ্যে নেই। ও এখন একটা ছোটো প্রাইভেট কোম্পানিতে পার্ট-টাইম চাকরি করছে শিপ্রার ওষুধের খরচ জোগাতে।

বাবা আর মেয়ের চোখ চারটে এক হলো। রিশার চোখে কোনো ঘৃণা ছিল না, ছিল এক অপার শূন্যতা আর কান্না। ও বুঝতে পেরেছিল ওনার বাবা যা করেছিলেন—তা সমাজকে চমক দেওয়ার জন্য যতটা ছিল, ওনাদের অভাব দূর করতে আর ওনাকে সুরক্ষিত রাখতে তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। কিন্তু পথটা ভুল ছিল।

কনস্টেবলরা যখন অবিনাশবাবুকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তিনি রিশার দিকে তাকিয়ে আলতো করে মাথা নাড়লেন। ওনার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক ম্লান, অপরাধী কিন্তু শান্ত হাসি। যেন তিনি বলতে চাইলেন—"আমি ভালো আছি রে, তুই মা-কে দেখিস।"

করিডোরের অন্য প্রান্ত থেকে ইন্সপেক্টর সায়ন সেনগুপ্ত পুরো দৃশ্যটা দেখছিলেন। ওনার পকেটে তখনো অবিনাশবাবুর সেই গোপন কালো ডায়েরিটা রাখা। সায়ন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ওনার সিগারেটটা নেভালেন।

আইন হয়তো জিতেছে, অবিনাশ দত্তের মতো একজন সিরিয়াল কিলারকে পুলিশ গারদে পুরেছে। কিন্তু সায়ন মনে মনে জানেন, এই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যতদিন মালতী মাসি বা আকাশ ব্যানার্জীদের মতো অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে, আর আইন অন্ধ হয়ে থাকবে—ততদিন কোনো না কোনো অন্ধকার গলি থেকে ভিউ আর ডলারের লোভে, কিংবা স্রেফ আক্রোশের বশে আবার জন্ম নেবে অন্য কোনো অবিনাশ দত্ত। আবার কোনো মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠবে একটা নতুন ‘ব্রেকিং নিউজ’।


THE END


📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে

গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️


``` Tanmoy Roy

Tanmoy Roy

Bengali Author • Storyteller • Founder & Lead Author of CHOLO GOLPO SUNI

```

Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller, and founder of CHOLO GOLPO SUNI. He writes original Bengali fiction across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali readers worldwide.

📚 Genres:
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali Fiction
Connect With The Author 👇

© Tanmoy Roy | CHOLO GOLPO SUNI | Bengali Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction

Comments