Breaking News | Part 01 | mysterious crime thriller story of a serial killer news reporter by Tanmoy Roy | Cholo Golpo Suni


লালবাজার সেন্ট্রাল লক-আপের স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালে একটা মস্ত বড় টিকটিকি স্থির হয়ে বসে ছিল। কয়েক ইঞ্চি দূরে একটা মথ ডানা ঝাপটাচ্ছিল। অন্ধকার ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে টিকটিকিটা এক নিমেষে ছোঁ মেরে মথটাকে গিলে ফেলল। শিকার আর শিকারির এই প্রাচীন খেলাটা বড় অদ্ভুত। তবে আদিম এই খেলাটা এখন আর শুধু বনের পশু বা দেওয়ালের টিকটিকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আধুনিক এই ডিজিটাল দুনিয়াটাও ঠিক একই নিয়মে চলে। সেখানে স্ক্রিনের ওপারে লাখ লাখ ক্ষুধার্ত চোখ হাঁ করে বসে থাকে একটু রক্ত, একটু হিংসা আর একটু উত্তেজনার আশায়। আর সেই খিদের মুখে রোজ নতুন শিকার ছুঁড়ে দিতে হয়।

লক-আপের এক কোণে একটা কাঠের বেঞ্চে বসে ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ অবিনাশ দত্ত। আজ থেকে এক বছর আগেও কলকাতার চেনা জনসমুদ্রে মিশে থাকা দশটা সাধারণ মানুষের মতোই ওনার কোনো আলাদা পরিচয় ছিল না। মেরুদণ্ড বাঁকানো এক মধ্যবিত্ত ক্লার্ক, যিনি ভাগ্য আর পরিস্থিতির মার খেতে খেতে একসময় খবরের পেছনে ছুটতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু একটা সময় পর অবিনাশবাবু বুঝতে পেরেছিলেন, খবরের পেছনে অন্ধের মতো ছুটে কোনো লাভ নেই, খবরকে নিজের হাতের মুঠোয় বন্দি করতে হয়। মানুষ যা দেখতে চায়, তাকে সেটাই নিখুঁতভাবে পরিবেশন করতে হয়।

বাইরের দুনিয়া আজ ওনাকে খুনি বলছে, খবরের কাগজে বড় বড় হরফে ওনার নাম ছাপা হয়েছে—"সাইকো সিরিয়াল কিলার"। কিন্তু অবিনাশবাবু মনে মনে জানেন, আইন যে সমাজকে পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তিনি তো শুধু নিজের ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সেই সমাজের অন্ধকার কীটগুলোকে টেনে বের করেছিলেন। আর তার বিনিময়ে এই সমাজই ওনাকে কোটি কোটি ভিউ দিয়েছে, দু-হাত উজাড় করে টাকা আর অন্ধ ভালোবাসা দিয়েছে।

চার দেওয়ালে বন্দি এই অন্ধকার ঘরে বসে অবিনাশবাবুর মুখে কোনো অনুশোচনার ছাপ নেই। ওনার শুধু একটাই আফসোস হচ্ছে—আজকের এই জেলের ভেতরের সবচেয়ে বড় এক্সক্লুসিভ খবরটা লাইভ করার জন্য ওনার হাতে কোনো ক্যামেরা নেই।

কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল এই রক্তমাখা খেলাটা? কীভাবে একজন সৎ, সংসারী মানুষ খবরের কাগজের সাধারণ পাঠক থেকে উঠে এসে নিজেই একটা ভয়ানক ব্রেকিং নিউজ হয়ে উঠলেন?

সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে ঠিক একটা বছর আগে, একটা অভিশপ্ত জুলাইয়ের কালঘাম ছোটানো রাতে...

 

*****************************


পঞ্চাশোর্ধ অবিনাশ দত্তর জীবনে অন্ধকারটা নেমে এসেছিল অত্যন্ত নীরবে, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই। যে বেসরকারি লজিস্টিক সংস্থায় তিনি দীর্ঘ বাইশ বছর সততার সাথে অ্যাকাউন্টসের কাজ সামলেছেন, এক মেইল বার্তায় তারা জানিয়ে দিল—"কোম্পানি পুনর্গঠনের কারণে আপনার পদের আর প্রয়োজন নেই।"


সেদিন বিকেলে যখন অবিনাশবাবু নিজের টেবিলের ড্রয়ার থেকে চশমার বাক্স, একটা পুরনো জলের বোতল আর ডায়েরিটা প্লাস্টিকের ব্যাগে পুরে অফিস থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখন ওনার মনে হয়েছিল কলকাতার চেনা আকাশটাও যেন ওনার দিকে তাকিয়ে উপহাস করছে।


বাড়িতে তিপান্ন বছরের স্ত্রী শিপ্রা আর কলেজের ফাইনাল ইয়ারের মেয়ে রিশা। মধ্যবিত্তের সংসার বলতে যা বোঝায়—এক চিলতে ফ্ল্যাট, সামান্য কিছু ফিক্সড ডিপোজিট আর এক আকাশ অনিশ্চয়তা। চাকরিটা যাওয়ার পর প্রথম দু-মাস অবিনাশবাবু জুতোর সুখতলা খুইয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটেছিলেন। কিন্তু প্রতিটা ইন্টারভিউ বোর্ডের টেবিলের ওপার থেকে ভেসে আসা একই উত্তর ওনার পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছিল—"আপনার এক্সপেরিয়েন্স ভালো অবিনাশবাবু, কিন্তু আমাদের একটু কম বয়সি, এনার্জেটিক ছেলে দরকার। আসলে আপনার তো ওভার-এজ হয়ে গেছে..."


'ওভার-এজ!' শব্দটা অবিনাশবাবুর কানে সীসার মতো গলিয়ে দিত। বয়স হওয়াটা কি অপরাধ? এই বয়সে তিনি সংসার চালাবেন কী করে? জমানো যা পুঁজি ছিল, তা দিয়ে কোনো নতুন ব্যবসা শুরু করার মতো সাহস বা আর্থিক জোর—কোনোটিই ওনার ছিল না।


এরই মধ্যে একদিন রাতে ওনার মেয়ে রিশা ওনার ভাঙা মন ভালো করতে ওনার ভাঙাচোরা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ফেসবুক স্ক্রল করে দেখাচ্ছিল। রিশা অবিনাশবাবুকে বলছিল, "জানো বাবা, এখন মানুষ আর টিভির নিউজ চ্যানেল খুব একটা দেখে না। সবাই ফেসবুকেই খবর দেখে। এই দেখো, কত সাধারণ মানুষ একটা করে ফেসবুক পেজ খুলে নিউজ চ্যানেল বানিয়ে ফেলেছে। একটু বুদ্ধি খাটালি আর ভিউ আনতে পারলে নাকি ফেসবুক থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করা যায়!"


কথাটা অবিনাশবাবুর মাথায় হাতুড়ির মতো আঘাত করল। ডিজিটাল দুনিয়া! যেখানে কোনো ইন্টারভিউ বোর্ড নেই, কোনো বয়সের সীমা নেই। যদি একটা নিউজ পেজ খোলা যায়? মানুষের তো খবরের প্রতি আজন্ম খিদে।
নিজের প্রভিডেন্ট ফান্ডের শেষ অবশিষ্টাংশ ভাঙিয়ে অবিনাশবাবু একটা সস্তা ট্রিপড, একটা ছোট কলার-মাইক আর একটা রিং লাইট কিনলেন। ফেসবুক পেজের নাম রাখলেন—"জনতার আওয়াজ"। তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, চটুল খবর নয়, তিনি সমাজের আসল সত্যিটা মানুষের সামনে আনবেন। সৎ পথে খেটে অন্তত ডাল-ভাতের সংস্থানটুকু তো হবে!


কিন্তু বাস্তব বড় নিষ্ঠুর। অবিনাশবাবু বুঝতে পারেননি যে ফেসবুকের দুনিয়াটা যতটা সহজ দেখায়, ভেতরে ভেতরে সেটা একটা অন্ধকার গোলকধাঁধা।


শুরু হলো অবিনাশবাবুর নতুন স্ট্রাগল। শহরের কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, কোনো রাজনৈতিক ঝামেলা হলে অবিনাশবাবু ওনার পুরনো স্কুটারটা নিয়ে ছুটে যেতেন। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সৎভাবে রিপোর্টিং করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু প্রতিবারই ওনার পেজটা মার খেয়ে যেত।


ডিজিটাল মিডিয়ার বাজারে তখন রাজত্ব করছে "সিটি নিউজ ২৪" এর মতো বড় বড় ফেসবুক পেজ। যার মালিক রনজয় চ্যাটার্জী নামের এক যুবক। রনজয়ের পেজের ফলোয়ার কয়েক মিলিয়ন। ওনারা খবর পাওয়ার আগেই ওনাদের সোর্স দিয়ে খবর লুফে নিত। অবিনাশবাবু যখন কোনো ক্রাইম স্পটে পৌঁছাতেন, দেখতেন রনজয়ের টিম চটুল এবং মনগড়া থাম্বনেইল বানিয়ে অলরেডি লাইভ শেষ করে ফেলেছে।


একদিন একটা প্রেস কনফারেন্সে অবিনাশবাবু রনজয়কে অনুরোধ করেছিলেন, "ভাই, আমিও নতুন কাজ শুরু করেছি। কোনো খবরের সোর্স যদি একটু শেয়ার করতে..."


রনজয় ওনার দিকে তাকিয়ে একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলেছিল, "দাদু, এই ডিজিটাল মিডিয়া আপনার মতো বুড়োদের জন্য নয়। এখানে ভিউ পেতে গেলে স্পিড লাগে, এডিটিং লাগে, আর লাগে মশলা। আপনি বরং ঘরে বসে খবরের কাগজ পড়ুন।"


অপমানে অবিনাশবাবুর কান ঝাঁ ঝাঁ করে উঠেছিল। মাসের পর মাস কেটে গেল। "জনতার আওয়াজ" পেজের ভিউ দশ-বারোটার বেশি বাড়ত না। ফলোয়ার সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকশো। এদিকে বাড়ির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল। শিপ্রার সুগারের ওষুধ কেনার টাকা, রিশার কলেজের শেষ সেমিস্টারের ফিস—সব মিলিয়ে অবিনাশবাবু এক গভীর ডিপ্রেশনের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। রাতের পর রাত ওনার ঘুম আসত না। তিনি শুধু মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতেন আর দেখতেন কীভাবে ফেসবুকের অ্যালগরিদম ওনাকে প্রতিদিন একটু একটু করে গিলে খাচ্ছে।


হতাশার চরম সীমায় পৌঁছে সেদিন রাতে অবিনাশবাবু একটা অদ্ভুত সত্য আবিষ্কার করলেন—ডিজিটাল দুনিয়া শান্ত, সৎ খবর খোঁজে না। এই দুনিয়া রক্ত খোঁজে, হিংসা খোঁজে, উত্তেজনা খোঁজে। আর খবর যদি সহজে না পাওয়া যায়, তবে খবর তৈরি করতে হয়!


সেদিন ছিল জুলাই মাসের এক কালঘাম ছোটানো রাত। ঘড়িতে তখন রাত প্রায় পৌনে দুটো। অবিনাশবাবু ওনার পুরনো স্কুটারটা নিয়ে বাইপাসের একটা নির্জন রাস্তা দিয়ে ফিরছিলেন। চারপাশটা ঘুটঘুটে অন্ধকার, ল্যাম্পপোস্টের আলোগুলোও ঠিকমতো জ্বলছিল না। ওনার মনের ভেতর তখন আত্মহত্যার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল।


হঠাৎ ওনার নজরে পড়ল রাস্তার ধারে একটা দামী গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, যার বনেটের সামনে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি টালমাটাল অবস্থায় ফোনের ওপারে কাউকে চিৎকার করে গালিগালাজ করছে। লোকটা প্রচণ্ড মদ্যপ।


কাছে যেতেই হেডলাইটের আলোয় অবিনাশবাবু লোকটার মুখটা চিনতে পারলেন। এ আর কেউ নয়, বিকাশ সামন্ত! অবিনাশবাবুর প্রাক্তন অফিসের সেই এইচআর ম্যানেজার, যে অবিনাশবাবুকে ছাঁটাই করার মেইলটা পাঠিয়েছিল এবং ওনার বকেয়া গ্র্যাচুইটির টাকাটা আটকে রেখে ওনাকে অফিস থেকে সিকিউরিটি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিল।


বিকাশ সামন্ত অবিনাশবাবুর স্কুটারের আওয়াজ পেয়ে ঘুরে তাকাল। মদের ঘোরে ওনার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, "এই যে ওল্ড ম্যান! এখানে কী করছিস? যা ভাগ এখান থেকে!"
অবিনাশবাবু স্কুটার থেকে নামলেন। ওনার বুকের ভেতর যেন বহুদিনের জমে থাকা লাভাটা ফুটতে শুরু করল। তিনি শান্ত গলায় বললেন, "বিকাশবাবু, আমার গ্র্যাচুইটির টাকাটা যদি একটু ব্যবস্থা করে দিতেন... আমার মেয়েটার পড়াশোনা আটকে যাচ্ছে।"


"টাকা? কিসের টাকা? কোম্পানি তোকে লাথি মেরে বের করেছে, ওটাই তোর ভাগ্য! বুড়ো ভাম একটা, মরতে আসিস কেন এখানে?" বিকাশ সামন্ত ওনার বুকে একটা ধাক্কা মারল।


মদ্যপ বিকাশের ধাক্কায় অবিনাশবাবু সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে গেলেন। কিন্তু ওনার হাতের কাছেই পড়েছিল রাস্তার ধারে পড়ে থাকা একটা ভারী, চোখা পাথর। অবিনাশবাবুর চোখের সামনে তখন নিজের কান্নায় ভেঙে পড়া স্ত্রী, মেয়ের অসহায় মুখ আর রনজয়ের সেই উপহাসের হাসি ভেসে উঠল। ওনার মাথার সমস্ত নিউরন যেন এক নিমেষে অবশ হয়ে গেল।


তিনি পাথরটা তুলে নিয়ে সজোরে আঘাত করলেন দাঁড়িয়ে থাকা বিকাশের মাথায়। একটি তীব্র আর্তনাদ করে বিকাশ সামন্ত মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ওনার মাথা থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছিটকে এসে লাগল অবিনাশবাবুর ফর্সা পাঞ্জাবিতে। বিকাশ মাটিতে পড়ে ছটফট করতে লাগল।


অবিনাশবাবু স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। ওনার প্রথম রিয়্যাকশন ছিল পকেট থেকে ফোনটা বের করে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা। ওনার হাত কাঁপছিল। কিন্তু ঠিক তখনই ওনার ভেতরের এক অদ্ভুত অন্ধকার সত্ত্বা জেগে উঠল। তিনি দেখলেন বিকাশ সামন্ত নিস্তেজ হয়ে গেছে। লোকটা মারা গেছে।


অবিনাশবাবু ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে নিলেন। না, তিনি অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেন না। ওনার মোরালিটি, ওনার সততা—সব যেন ওই রক্তের স্রোতে ভেসে গেল। তিনি স্কুটারের ডিকি থেকে ওনার ট্রিপড আর লাইভ ক্যামেরাটা বের করলেন।


হাত কাঁপছিল, বুক দুরুদুরু করছিল, কিন্তু এক অদ্ভুত আদিম হিংস্রতায় ওনার চোখ দুটো চকচক করে উঠল। তিনি লাশটার থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে ক্যামেরাটা সেট করলেন। নিজের কোটের হাতা দিয়ে মুখের ঘাম মুছলেন। তারপর "জনতার আওয়াজ" পেজ থেকে লাইভ বোতামটা প্রেস করলেন। গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে অবিনাশবাবুর গম্ভীর, গম্ভীর কণ্ঠস্বর বাতাসে ভেসে গেল— "নমস্কার, জনতার আওয়াজ থেকে আমি অবিনাশ দত্ত। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় ব্রেকিং নিউজ! ৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। মাথার পেছনে গভীর ক্ষত। পুলিশের আগেই জনতার আওয়াজ পৌঁছে গেছে ঘটনাস্থলে। শহরের বুকে কি তবে কোনো নতুন গ্যাং ওয়ারের সূচনা? দেখুন এক্সক্লুসিভ..."


পরদিন সকাল। অবিনাশবাবু যখন ঘুম থেকে উঠলেন, ওনার চোখ তখন ঘুমে লাল। কিন্তু মোবাইলটা হাতে নিতেই ওনার হৃদস্পন্দন যেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। "জনতার আওয়াজ" পেজের নোটিফিকেশন প্যানেলটা যেন পাগল হয়ে গেছে। অনবরত লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের আওয়াজ হচ্ছে। রাতের সেই লাইভ ভিডিওটার ভিউয়ার্স সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ২ লাখ! কমেন্ট বক্সে মানুষ লিখছে—"পুলিশের আগে এই মিডিয়া কী করে পৌঁছাল?", "সাবাস সাংবাদিক!", "আসল সত্যিটা দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।"


দুপুরের মধ্যে ওনার পেজের ফলোয়ার সংখ্যা এক লাফে ১০ হাজার পেরিয়ে গেল। বিকেল নাগাদ ওনার মোবাইলে একটা মেসেজ এল—ফেসবুকের মনিটাইজেশন অন হয়ে গেছে এবং প্রথম রাতের ভিউ থেকেই ওনার অ্যাকাউন্টে একটা মোটা অঙ্কের ডলার জমা হতে শুরু করেছে।


অবিনাশবাবু বাথরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। নিজের মুখের দিকে তাকালেন। ওনার পাঞ্জাবিতে লেগে থাকা রক্তের দাগটা তিনি ধুয়ে ফেলেছেন ঠিকই, কিন্তু ওনার মনের ভেতরের মানুষটা চিরতরে বদলে গেছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন, এই সমাজ অপরাধ দেখতে ভালোবাসে। আর সেই অপরাধের খবর সবার আগে পরিবেশন করতে পারলে টাকা আর ক্ষমতা—দুই-ই পায়ের নিচে এসে লুটোপুটি খায়। ভিউজের এই আদিম ক্ষুধা ওনাকে এক লহমায় গ্রাস করে নিল।


তিনি মনে মনে হাসলেন। তবে তিনি সাধারণ খুনি হবেন না। তিনি নিষ্পাপ কোনো মানুষকে মারবেন না। তিনি টার্গেট করবেন এই সমাজের সেইসব কীটদের, যারা আইনের ফাঁক গলে, এভিডেন্সের অভাবে বুক ফুলিয়ে সমাজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে ওনার বিবেকের কাছে উনি অপরাধী হবেন না, নিজেকে সমাজের 'ত্রাতা' বলে সান্ত্বনা দিতে পারবেন, আবার ওনার নিউজ চ্যানেলে ভিউ আর স্পনসরশিপের বন্যাও বয়ে যাবে।


অবিনাশ দত্ত ওনার ডায়েরিটা খুললেন। ওনার কলমের ডগা দিয়ে এবার লেখা শুরু হলো পরবর্তী 'ব্রেকিং নিউজ'-এর প্ল্যান। ওনার চোখের মনিতে তখন জ্বলজ্বল করছে ভিউজের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং এক ঠাণ্ডা মাথার জাস্টিস গেমের নীল নকশা।


 Continue in PART 02...


📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে

গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️


``` Tanmoy Roy

Tanmoy Roy

Bengali Author • Storyteller • Founder & Lead Author of CHOLO GOLPO SUNI

```

Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller, and founder of CHOLO GOLPO SUNI. He writes original Bengali fiction across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali readers worldwide.

📚 Genres:
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali Fiction
Connect With The Author 👇

© Tanmoy Roy | CHOLO GOLPO SUNI | Bengali Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction

Comments