Breaking News | Part 02 | mysterious crime thriller story of a serial killer news reporter story by Tanmoy Roy | Cholo Golpo Suni



Please read PART 01 first...

***************************

"জনতার আওয়াজ" পেজের মনিটাইজেশন অন হওয়ার পর প্রথম মাসে যখন ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি অ্যাকাউন্ট এলো, অবিনাশবাবুর প্রথম বিশ্বাসই হয়নি। ব্যাংক থেকে টাকাটা তুলে ওনার প্রথম কাজ ছিল শিপ্রার জন্য একটা ভালো কোম্পানির পোর্টেবল অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর আর ইনসুলিন কেনা। সরকারি হাসপাতালের লম্বা লাইন আর নোংরা পরিবেশ থেকে বাঁচিয়ে শিপ্রাকে ওনারা এখন শহরের একজন নামী ফিজিশিয়ানের চেম্বারে দেখান।

সংসারের ভোল্টেজটা এক ধাক্কায় যেন অনেকটাই বদলে গেছে। কলেজের শেষ সেমিস্টারের ফি জমা দেওয়ার পর রিশা ওনার জন্য রান্না করেছিল। খাবার টেবিলে রিশা ওনার হাতটা ধরে বলেছিল, "বাবা, তুমি যে এই বয়সে এসেও এত রাত জেগে রিপোর্টিং করছ, আমার মাঝে মাঝে খুব চিন্তা হয়। কিন্তু ডিজিটাল মিডিয়াটা তুমি সত্যিই দারুণ ধরেছ।"

অবিনাশবাবু মেয়ের দিকে তাকিয়ে সামান্য হেসেছিলেন। কিন্তু ওনার ভেতরের অপরাধবোধটা ওনাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। বিকাশ সামন্তের ওই শেষ মুহূর্তের ছটফটানি আর ওনার পাঞ্জাবিতে লেগে থাকা রক্তের ছোপটা তিনি কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। ওনার প্রায়ই রাতে ঘুম ভেঙে যায়, হাত-পা কাঁপতে থাকে। ড্রইংরুমে গিয়ে ওনার মনে হয় সোফাটায় যেন বিকাশ সামন্ত বসে আছেন।

কিন্তু পরক্ষণেই যখন ওনার চোখে পড়ে শিপ্রার শান্ত ঘুমন্ত মুখ আর রিশার টেবিলের ওপর রাখা নতুন বইগুলো—অবিনাশবাবু ওনার ভেতরের কাঁপুনিটাকে চেপে ধরেন। মধ্যবিত্তের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মোরালিটি বা সততা বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়। ওনার শুধু একটাই নেশা চেপে বসেছিল—যেভাবেই হোক, এই পেজের ভিউ আর রিচ ধরে রাখতে হবে। কারণ রিচ কমলেই ইনকাম বন্ধ, আর ইনকাম বন্ধ মানেই আবার সেই পুরোনো অন্ধকার দিনগুলো ফিরে আসা।

কিন্তু সমস্যা হলো, রোজ রোজ তো আর রাস্তায় ওমন অ্যাক্সিডেন্ট বা মার্ডার পাওয়া যায় না। সাধারণ খবর মানুষ স্ক্রল করে চলে যায়। "জনতার আওয়াজ"-এর গ্রাফটা এক সপ্তাহের মধ্যে আবার নামতে শুরু করেছিল। অবিনাশবাবু বুঝতে পারছিলেন, মানুষ চমক চায়। আর চমক যদি নিজে থেকে না আসে, তবে সেটা তৈরি করতে হবে। ওনার মাথা তখন থেকেই একটা ঠাণ্ডা মাথার জাস্টিস গেমের ছক কষতে শুরু করে।

একদিন দুপুরে লোকাল একটা নিউজ পোর্টালে অবিনাশবাবু একটা খবর দেখলেন। আকাশ ব্যানার্জী নামের এক রাজনৈতিক নেতার প্রভাবশালী ছেলে, যার বিরুদ্ধে কয়েকমাস আগে এক আদিবাসী নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল, সে প্রমাণের অভাবে এবং পুলিশের দুর্বল চার্জশীটের সুবাদে নিম্ন আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেছে। ভিকটিমের পরিবারটি গরিব হওয়ায় ওনারা কেসটা আর ওপরের কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সাহস বা টাকা—কোনোটিই পাচ্ছিলেন না।

অবিনাশবাবুর চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। তিনি ভাবলেন, এই লোকটাকে যদি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়, তবে সেটা যেমন সমাজের একটা উপকার হবে, তেমনই ওনার পেজের জন্য হবে এক অলৌকিক ব্রেকিং নিউজ। প্রভাবশালী নেতার ছেলের মার্ডার—সারা রাজ্য ভেঙে পড়বে ওনার পেজে।

অবিনাশবাবু কোনো তাড়াহুড়ো করলেন না। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তিনি আকাশের ওপর নজর রাখতে শুরু করলেন। নিজের পেজের দুজন নতুন ছেলেকে তিনি আকাশদের পাড়ায় পাঠিয়েছিলেন খবরের সোর্স হিসেবে, ওনারা ওনাকে ইনফরমেশন দিত। তিনি জানতে পারলেন আকাশ প্রায়ই রাতে ওনার বন্ধুদের সাথে বাইপাসের ধারের একটা নির্জন বাগানবাড়িতে মদ্যপান করতে যায় এবং ফেরার সময় ও নিজেই গাড়ি চালায়।

জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহের এক বৃষ্টিভেজা রাতে অবিনাশবাবু ওনার পুরনো স্কুটারে চেপে বাইপাসের ওই অন্ধকার সার্ভিস রোডের মোড়ে অপেক্ষা করছিলেন। ওনার ব্যাগে ছিল ওনার অফিসের পুরনো লোহার পেপারওয়েট আর একটা ধারাল কাটার। ওনার বুক দুরুদুরু করছিল, কপালে ঠাণ্ডা ঘাম জমছিল।

রাত তিনটে নাগাদ আকাশের দামী গাড়িটা ধীরগতিতে মোড় ঘুরতেই অবিনাশবাবু ওনার স্কুটারটা মাঝরাস্তায় ফেলে দিয়ে নিজে অন্ধকারের আড়ালে লুকিয়ে পড়লেন। ওনার স্কুটারে ধাক্কা লেগে আকাশের গাড়িটা ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে গেল।

আকাশ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি থেকে নেমে গালিগালাজ করতে করতে স্কুটারটা দেখতে গেল। লোকটা কতটা অসতর্ক ছিল, সেটা ও নিজেই জানত না। ও যখন নিচু হয়ে স্কুটারটা সরাতে গেল, অবিনাশবাবু পেছন থেকে এসে ওনার ব্যাগের ভারী পেপারওয়েট দিয়ে সজোরে আঘাত করলেন আকাশের কানের নিচে।

আকাশ কোনো চিৎকার করার সুযোগ পায়নি। মাটিতে পড়ে যেতেই অবিনাশবাবু ওনার শরীরের পুরো ভর দিয়ে আকাশের গলায় কাটারটা বসিয়ে দিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটা ওনার করতে বড়জোর দেড় মিনিট সময় লেগেছিল। ওনার হাত-পা তখন কাঁপছিল, তিনি হাপাচ্ছিলেন।

কিন্তু ওনার প্রফেশনাল মস্তিষ্কটা ঠিক সচল ছিল। তিনি দ্রুত নিজের জামা-কাপড় পরীক্ষা করলেন, কোথাও কোনো রক্তের দাগ লাগেনি। তিনি স্কুটারটা তুলে নিয়ে একটু দূরে পার্ক করলেন। তারপর পকেট থেকে মোবাইল আর ট্রিপডটা বের করে লাশের থেকে অন্তত দশ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে ক্যামেরা অন করলেন।

হাত কাঁপানো অবস্থাতেই ওনার পেশাদার গলাটা বের হয়ে এলো— "নমস্কার, জনতার আওয়াজ থেকে অবিনাশ দত্ত। এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় ব্রেকিং নিউজ। বাইপাসের সার্ভিস রোডের ধার থেকে উদ্ধার হলো প্রভাবশালী আকাশ ব্যানার্জীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। কে বা কারা ওনাকে খুন করল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ আসার আগেই জনতার আওয়াজ পৌঁছে গেছে স্পটে..."

পরদিন সকাল হতেই ওনার পেজের ভিউয়ার্স সংখ্যা ছাড়িয়ে গেল ৪ মিলিয়ন। কিন্তু এই বিপুল ভিউ আর ডলার আসার আনন্দের মাঝেই একটা বড় বিপদ ওনার দরজায় কড়া নাড়ল।

লালবাজার ক্রাইম ব্রাঞ্চের ইনভেস্টিগেশন অফিসার সায়ন সেনগুপ্ত দুটো মার্ডার কেসের ফাইল এক টেবিলে নিয়ে বসেছিলেন। সায়ন কোনো फिल्मी বা ড্রামাটিক পুলিশ অফিসার নন, তিনি ডেটা এবং লজিকের ওপর ভরসা করেন।

তিনি ওনার কম্পিউটারে "জনতার আওয়াজ" পেজের দুটো লাইভ ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্প (Timestamp) এবং মেটাডেটা অ্যানালিসিস করছিলেন। ওনার পাশে দাঁড়িয়ে ওনার সাব-ইন্সপেক্টর বললেন, "স্যার, দুটো মার্ডারেই প্রথম লোকাল সোর্স হিসেবে এই অবিনাশ দত্তই লাইভ করেছেন।"

"শুধু তাই নয়," সায়ন স্ক্রিনের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, "বিকাশ সামন্তর মার্ডারের রাতে ওই রাস্তায় কোনো ট্রাফিক ছিল না। কন্ট্রোল রুমে প্রথম ওয়ান-জিরো-টু তে ফোন আসে রাত ২ টো বেজে ১০ মিনিটে। আর এই অবিনাশবাবুর লাইভ শুরু হয়েছে ১ টা বেজে ৫০ মিনিটে। তার মানে পুলিশের কাছে ইনফরমেশন আসার ২০ মিনিট আগে উনি স্পটে ল্যাপটপ-ক্যামেরা নিয়ে রেডি!"

সাব-ইন্সপেক্টর বললেন, "হতেই পারে স্যার ওনার সোর্স পুলিশের চেয়ে ফাস্ট।"

"হতে পারে," সায়ন মাথা নাড়লেন, "কিন্তু আকাশ ব্যানার্জীর কেসটা দেখো। আকাশ পাব থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে রাত ২ টো বেজে ৪০ মিনিটে। ওর বডি স্পট করা গেছে রাত ৩ টে বেজে ৫ মিনিটে। আর এই জনতার আওয়াজ পেজের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের টাইম দেখাচ্ছে রাত ৩ টে বেজে ১০ মিনিট। সোর্স যতই ফাস্ট হোক, মাঝরাতে বৃষ্টির মধ্যে পাঁচ মিনিটে একটা মার্ডারের খবর পেয়ে ট্রিপড সাজিয়ে লাইভ করা কোনো সাধারণ লোকাল জার্নালিস্টের পক্ষে অসম্ভব। আনলেস..."

সায়ন একটু থামলেন। ওনার চোখ দুটো সরু হয়ে এল।

"আনলেস, ও নিজেই ক্রাইম স্পটে অলরেডি প্রেজেন্ট ছিল। ও খবরের পেছনে ছুটছে না, ও খবরটা আগে থেকেই জানত।"

সায়ন ওনার ডেস্কে থাকা ডায়েরিটা খুললেন। "অবিনাশ দত্তর মোবাইল নম্বরের লাস্ট ওয়ান মান্থের টাওয়ার ডাম্প ডেটা (Tower Dump Data) আর সিডিআর (Call Detail Record) বের করো। দুটো মার্ডারের রাতেই ওনার ফোনের লোকেশন কোন টাওয়ারের আন্ডারে ছিল, আমি আজ বিকেলের মধ্যে দেখতে চাই। ভদ্রলোক যদি নিজেকে বেশি চালাক ভাবেন, তবে ওনার অজান্তেই উনি নিজের অজস্র ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ফেলে রেখে গেছেন।"

ওদিকে, নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে অবিনাশবাবু ওনার ডায়েরিতে পরবর্তী নামের পাশে পেন দিয়ে দাগ কাটছিলেন—সুব্রত কুণ্ডু। তিনি জানতেন না, ওনার ফোনের জিপিএস লোকেশন আর লালবাজারের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সার্ভার ওনাকে অলরেডি ট্র্যাক করা শুরু করে দিয়েছে।


***************************

Please continue in Part 03...


📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে

গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️


``` Tanmoy Roy

Tanmoy Roy

Bengali Author • Storyteller • Founder & Lead Author of CHOLO GOLPO SUNI

```

Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller, and founder of CHOLO GOLPO SUNI. He writes original Bengali fiction across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali readers worldwide.

📚 Genres:
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali Fiction
Connect With The Author 👇

© Tanmoy Roy | CHOLO GOLPO SUNI | Bengali Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction

Comments