মাধ্যমিক পরীক্ষার টেনশন – Class 10 এর বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প | Bengali Student Life Story full of exam stress, family expectations, society expectations | by Tanmoy Roy - Cholo Golpo Suni

 


‘পরীক্ষা’ — শব্দটা শুনলেই আজও অনেক ছাত্রছাত্রীর বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। ছোটোবেলায় যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি হই, তখন পরীক্ষার মানে ছিল কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর লেখা আর তারপর ছুটি। কিন্তু ক্লাস যত বাড়তে থাকে, পরীক্ষার ভয়টাও তত বড় হতে থাকে। আর সেই ভয়ের চূড়ান্ত রূপটা প্রথমবার দেখা যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়।

আমি আজও ভুলতে পারি না, যখন আমি ক্লাস ১০-এ পড়তাম, তখন পুরো একটা বছর যেন শুধুই “মাধ্যমিক” শব্দটার ভিতর দিয়ে কেটেছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত — সবকিছুর মাঝখানে শুধু একটা কথাই ঘুরত, “মাধ্যমিক”।

সত্যি বলতে, তখন মনে হতো এই পরীক্ষাটাই যেন জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ।

ক্লাস ১০-এ ওঠার পর প্রথম কয়েকদিন খুব ভালো লাগছিল। নতুন বই, নতুন খাতা, নতুন ক্লাস — সবকিছুতেই একটা আলাদা excitement ছিল। কিন্তু সেই excitement খুব বেশিদিন টিকল না। কারণ কয়েকদিন যেতেই চারপাশ থেকে একটাই কথা শুনতে শুরু করলাম —

“এবার কিন্তু মাধ্যমিক।”

“এবার আর খেলাধুলো নয়।”

“এই এক বছর মন দিয়ে পড়তে হবে।”

“মাধ্যমিকের রেজাল্টটাই ভবিষ্যৎ ঠিক করবে।”

শুরুতে এসব কথা শুনে খুব একটা গুরুত্ব দিতাম না। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, বাড়ির লোকজন সত্যিই বিষয়টাকে খুব সিরিয়াসলি নিচ্ছে।

আগে বিকেলে বন্ধুদের সাথে মাঠে ক্রিকেট খেলতে গেলে কেউ কিছু বলত না। কিন্তু ক্লাস ১০-এ ওঠার পর মাঠে যেতে গেলেই বাড়ি থেকে প্রশ্ন আসত —

“পড়া শেষ?”

“কালকের chapter complete হয়েছে?”

“এখনও বাইরে যাওয়ার সময় আছে?”

ধীরে ধীরে মাঠে যাওয়াটাই কমে গেল।

বন্ধুরাও তখন আগের মতো ছিল না। আগে যেখানে আড্ডার বিষয় ছিল ক্রিকেট, সিনেমা বা মোবাইল গেম, এখন সেখানে আলোচনা হতো —

“ম্যাথসের কোন chapter টা important?”

“Life Science-এর suggestion পেয়েছিস?”

“History-র dateগুলো কীভাবে মনে রাখছিস?”

মনে হতো পুরো পৃথিবীটাই যেন পড়াশোনার মধ্যে ঢুকে গেছে।

শুধু পরিবার নয়, আত্মীয়স্বজনরাও তখন হঠাৎ করে খুব concern দেখাতে শুরু করলেন। কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হলেই প্রথম প্রশ্ন —

“প্রস্তুতি কেমন?”

“কত ঘণ্টা পড়ছো?”

“টেস্টে কত পেয়েছো?”

কিছু আত্মীয় তো ফোন করেই জিজ্ঞেস করতেন —

“স্টার মার্কস আনতে হবে কিন্তু!”

তখন এসব শুনে চাপটা আরও বেড়ে যেত। মনে হতো, শুধু আমি না — পুরো পাড়া যেন আমার রেজাল্টের অপেক্ষায় বসে আছে।

সত্যি কথা বলতে, মাধ্যমিক পরীক্ষার আসল ভয়টা শুধু পড়াশোনা না। আসল ভয়টা হলো চারপাশের expectations।

দিন যত এগোচ্ছিল, টেনশনও তত বাড়ছিল। ডিসেম্বর-জানুয়ারির দিকে এসে তো অবস্থা এমন হয়েছিল যে বই ছাড়া অন্য কিছু ভাবলেই অপরাধবোধ হতো।

রাতে পড়তে বসলে কখনও কখনও জানলার বাইরে তাকিয়ে থাকতাম। দূরে বন্ধুদের হাসির শব্দ শুনতে পেতাম। কেউ ক্রিকেট খেলছে, কেউ গল্প করছে। আর আমি তখন History-র date মুখস্থ করছি বা Physical Science-এর equation solve করছি।

মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত লাগত। মনে হতো, জীবনটা শুধু পড়াশোনার মধ্যেই আটকে গেছে।

তবুও পড়তাম। কারণ ভিতরে ভিতরে একটা ভয় কাজ করত —

“যদি খারাপ রেজাল্ট হয়?”

“যদি সবাই হতাশ হয়?”

“যদি ভালো স্কুলে ভর্তি হতে না পারি?”

সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগত পরীক্ষার আগের রাতগুলোতে।

পরীক্ষার আগের রাতে যতই পড়তাম, মনে হতো কিছুই পড়া হয়নি। একটা chapter শেষ করার পর মনে হতো আগের chapter ভুলে গেছি।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখতাম রাত ১টা, ২টা বেজে গেছে। কিন্তু মাথার ভিতরে টেনশন এতটাই চলত যে ঘুম আসত না।

আর funny ব্যাপার হলো, তখন ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটা আলাদা category চোখে পড়ত।

একদল ছিল যারা সারাবছর নিয়ম করে পড়ত এবং পরীক্ষার দিনও একদম cool থাকত। এদের দেখে মনে হতো এরা মানুষ না, machine।

আরেকদল ছিল যারা সারাবছর কিছুই পড়ত না, কিন্তু পরীক্ষার আগের রাতে পুরো বই শেষ করে ফেলত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এদের অনেকের নম্বরও ভালো আসত।

আবার কিছু মানুষ ছিল যারা কিছুই পড়ত না, কিন্তু কোনো টেনশনও নিত না। তারা আগেই ধরে নিয়েছিল যা হওয়ার হবে।

আর আমি ছিলাম সেই category-তে যারা সারাবছর পড়াশোনা করার পরেও টেনশনে থাকত।

“যদি কমন না আসে?”

“যদি হলে গিয়ে সব ভুলে যাই?”

“যদি মাথা blank হয়ে যায়?”

এই চিন্তাগুলো মাথার ভিতরে nonstop চলতেই থাকত।

পরীক্ষার প্রথম দিনের সকালটা আজও খুব clear মনে আছে।

সকাল থেকেই বুকের ভিতর একটা অদ্ভুত nervousness কাজ করছিল। মা বারবার বলছিলেন —

“টেনশন নিস না, যা পড়েছিস তাই লিখে আসবি।”

কিন্তু সেই কথা শুনেও টেনশন কমছিল না।

অ্যাডমিট কার্ড, pen, scale সব ঠিক আছে কিনা বারবার check করছিলাম। মনে হচ্ছিল কিছু একটা নিশ্চয়ই ভুলে যাচ্ছি।

পরীক্ষার সেন্টারে পৌঁছে দেখি প্রায় সবার একই অবস্থা। কেউ শেষ মুহূর্তে বই খুলে পড়ছে, কেউ বন্ধুর সাথে important question discuss করছে, আবার কেউ চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।

কিছু মানুষের মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তারা গতরাতে ঠিকমতো ঘুমোয়নি।

তারপর বেল পড়ল।

সেই মুহূর্তটা সত্যিই আলাদা ছিল। প্রশ্নপত্র হাতে নেওয়ার আগে পর্যন্ত বুকের ভিতর heartbeat এত জোরে হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল পাশের লোকও শুনতে পাচ্ছে।

প্রথমে ধীরে ধীরে প্রশ্ন পড়লাম। তারপর যখন দেখলাম কিছু প্রশ্ন common এসেছে, তখন ভিতর থেকে একটু শান্তি পেলাম।

সত্যি বলতে, পরীক্ষার হলে common প্রশ্ন দেখার আনন্দটা আলাদা level-এর।

কিন্তু যেদিন প্রশ্ন একটু tough আসত, সেদিন পুরো mood off হয়ে যেত। তখন মনে হতো, “সব শেষ!”

আর একটা জিনিস খুব annoying ছিল — পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর answer discuss করা।

হল থেকে বেরোনোর পর সবাই answer match করতে শুরু করত।

“৩ নম্বরের উত্তর কী লিখেছিস?”

“শেষের অঙ্কটার answer কত এসেছে?”

“Map point করেছিস?”

প্রথমে আমিও discussion করতাম। কিন্তু পরে বুঝেছিলাম, এতে শুধু টেনশন বাড়ে। কারণ যত answer মিলাতাম, তত মনে হতো কোথাও না কোথাও ভুল করেছি।

এইভাবে একটার পর একটা পরীক্ষা শেষ হলো।

শেষ পরীক্ষার দিন হল থেকে বেরিয়ে যে feelingটা হয়েছিল, সেটা ভাষায় বোঝানো কঠিন। মনে হচ্ছিল মাথা থেকে বিশাল একটা চাপ নেমে গেছে।

তারপর শুরু হলো তিন মাসের freedom।

সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ক্রিকেট খেলা, TV দেখা — সবকিছু আবার আগের মতো হয়ে গেল।

সেই সময়টাতে সত্যিই মনে হতো জীবন আবার normal হয়েছে।

কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা টেনশন তখনও ছিল — রেজাল্ট।

রেজাল্ট বেরোনোর দিন যত এগিয়ে আসছিল, টেনশনও আবার বাড়ছিল।

রেজাল্টের আগের রাতে ঠিকমতো ঘুমোতেই পারিনি। বারবার মনে হচ্ছিল —

“যদি নম্বর কম আসে?”

“বাড়ির লোক কী বলবে?”

“বন্ধুরা কত পাবে?”

পরের দিন রেজাল্ট দেখার সময় হাত সত্যিই কাঁপছিল।

সেই মুহূর্তটার feeling আজও ভুলতে পারিনি।

আজ এত বছর পর পিছনে তাকিয়ে বুঝি, মাধ্যমিক জীবনের একটা ছোট্ট অংশ মাত্র। কিন্তু তখন এটা আমাদের কাছে পুরো পৃথিবী ছিল।

এখন মনে হয়, সেই টেনশন, রাত জাগা, বন্ধুদের সাথে suggestion discuss করা, পরীক্ষার হলের nervousness — এসবই আসলে school life-এর সবচেয়ে real memories।

আর হয়তো সেই কারণেই আজও “মাধ্যমিক পরীক্ষা” শব্দটা শুনলেই আমার মনে পড়ে যায় ক্লাস ১০-এর সেই দিনগুলোর কথা… যেখানে একটা সাধারণ ছেলে সারাদিন বই নিয়ে বসে ভাবত —

“এবার যদি সব ঠিকঠাক হয়…”।


................

পাঠকদের উদ্দেশ্যে


আমার গল্পটি পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

যদি গল্পটি আপনার ভালো লেগে থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টের মাধ্যমে জানান এবং গল্পটি আপনার বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

আপনার প্রতিটি মন্তব্য, পরামর্শ ও উৎসাহ আমাকে আরও ভালো গল্প লেখার অনুপ্রেরণা দেয়।

আবারও ধন্যবাদ।


— তন্ময় রায়



✍️ About The Writer

Tanmoy Roy is a Bengali story writer passionate about emotional storytelling, horror, adventure and relationship-based stories.

Follow Him 👇

Comments